সন্দেহের বশে নির্যাতন, বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা গৃহবধূর
আগরতলা, ১৩ আগস্ট: স্বামীর লাগাতার নির্যাতন ও সন্দেহের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন জনৈক গৃহবধূ। বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আগরতলায় জিবিপি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে সিপাহীজলা জেলার বিশালগড় থানাধীন নতুননগরের বর্মণটিলা এলাকায়।
আহত গৃহবধূর নাম সোমা বর্মণ। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই স্বামী সুশীল বর্মণ সন্দেহের বশে তাঁকে মারধর ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে আসছেন। পেশায় কাঠমিস্ত্রি সুশীল বর্মণ প্রায়ই মদ্যপ অবস্থায় বাড়িতে ফিরে তাঁর ওপর অত্যাচার করতেন বলেও অভিযোগ করেছেন সোমা বর্মণ।
জানা গেছে, প্রায় ১২ বছর আগে সুশীল বর্মণের সঙ্গে সোমা বর্মণের বিয়ে হয়। তাঁদের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। সন্তানটির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এবং একদিন স্বামী ভালো হয়ে যাবেন—এই আশায় এতদিন যাবৎ সমস্ত নির্যাতন সহ্য করে আসছিলেন তিনি। থানায় লিখিত অভিযোগও করেননি। তবে বিষয়টি গ্রামপ্রধানসহ এলাকার কয়েকজনের কাছে জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন সোমা বর্মণ। কিন্তু তাতেও সমস্যার সমাধান হয়নি।
অভিযোগ, বুধবার ফের সন্দেহের বশে মদ্যপ অবস্থায় স্ত্রী সোমা বর্মণের ওপর চড়াও হন সুশীল বর্মণ। তাঁকে মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়। এরপরও নির্যাতন থামেনি বলে অভিযোগ। বরং একটি বিষের কৌটো এনে তা সোমা বর্মণের হাতে দিয়ে বিষ পান করে মরে যাওয়ার নির্দেশ দেন স্বামী—এমনই গুরুতর অভিযোগ করেছেন আহত গৃহবধূ।
পরিস্থিতিতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত সোমা বর্মণ রাগ ও অভিমানের বশে ওই বিষ পান করে ফেলেন বলে জানান। কিছুক্ষণ পর বিষয়টি পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের নজরে আসে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে দ্রুত বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে আগরতলায় জিবিপি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বৃহস্পতিবার জিবিপি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিজের ওপর চলা নির্যাতনের কথা জানান সোমা বর্মণ। তিনি বলেন, সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে এতদিন স্বামীর অত্যাচার সহ্য করেছেন। একইসঙ্গে স্বামী একদিন পরিবর্তিত হবেন—এই আশাতেও পুলিশের দ্বারস্থ হননি। কিন্তু দিনের পর দিন নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুননগরের বর্মণটিলা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গৃহবধূর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পরও কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বর্তমানে জিবিপি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সোমা বর্মণ। ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বা অভিযুক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও জানা যায়নি। গৃহবধূর অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে এলাকায়।
