নাবালিকা অপহরণের সাত দিন পর গ্রেফতার অভিযুক্ত যুবকের বাবা ও ভাই
আগরতলা, ১৩ আগস্ট : নাবালিকা অপহরণের ঘটনার সাত দিন পর অবশেষে গ্রেফতার করা হল মূল অভিযুক্তের বাবা ও ভাইকে। বুধবার রাতে আমতলি থানার পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করে। ধৃতরা হলেন মতি মিয়া ও কামাল মিয়া। জানা গেছে, মতি মিয়া অপহরণ কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত জামাল মিয়ার বাবা এবং কামাল মিয়া তাঁর ভাই। বৃহস্পতিবার ধৃত দু’জনকে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৬ আগস্ট। সিপাহীজলা জেলার বিশ্রামগঞ্জ এলাকার জনৈক হিন্দু নাবালিকাকে অপহরণের অভিযোগ ওঠে পশ্চিম বড়জলা এলাকার বাসিন্দা জামাল মিয়ার বিরুদ্ধে। ঘটনার পর নাবালিকার পরিবারের পক্ষ থেকে বিশ্রামগঞ্জ থানায় অভিযোগ জানানো হয়। পরিবারের অভিযোগ, অভিযোগ জানানোর পরও নাবালিকাকে উদ্ধারে পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এদিকে নাবালিকাকে উদ্ধারে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ বাড়তে থাকে এলাকায়। বুধবার ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিশ্রামগঞ্জ থানা ঘেরাও করে। অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার এবং অপহৃত নাবালিকাকে উদ্ধারের দাবিতে থানার সামনে সরব হন তাঁরা। পরিস্থিতির চাপে পুলিশ পরে একটি জিরো এফআইআর গ্রহণ করে। সেই এফআইআর আমতলি থানায় পাঠানো হয়।
এরপরই বুধবার রাতে আমতলি থানার পুলিশ তদন্তে নামে এবং মূল অভিযুক্ত জামাল মিয়ার বাবা মতি মিয়া ও ভাই কামাল মিয়াকে গ্রেফতার করে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জামাল মিয়া পূর্ত দফতরের কর্মচারী এবং তাঁর ভাই কামাল মিয়া একটি ব্যাংকে কর্মরত। ধৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারায় মামলা নথিভুক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার ধৃত দুই অভিযুক্তকে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অপহরণ কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত জামাল মিয়ার অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। একইসঙ্গে অপহৃত নাবালিকাকেও উদ্ধারের ক্ষেত্রে অগ্রগতি হতে পারে বলে পুলিশের আশা।
তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মূল অভিযুক্ত জামাল মিয়াকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি অপহৃত নাবালিকাকেও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। ফলে ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্রামগঞ্জ এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্য অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে আমতলি থানার ওসি ইন্সপেক্টর পরিতোষ দাস এবং মামলার তদন্তকারী অফিসার অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর সুজাতা সিনহা মামলার বিষয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত তথ্য জানাতে অস্বীকার করেছেন। ফলে তদন্তের অগ্রগতি এবং নাবালিকার বর্তমান অবস্থান নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
নাবালিকাকে দ্রুত উদ্ধার, মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে এলাকায় ক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। এখন ধৃত দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তদন্ত কোন দিকে এগুয় এবং মূল অভিযুক্ত ও নাবালিকার সন্ধান মেলে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে স্থানীয়দের।
