Tripura

অভাবকে জয় করে সাফল্যের শিখরে সোনাতলার পীযূষ, সিবিএসই-র দশমে ৯৭ শতাংশ নম্বর

খোয়াই, ১৬ এপ্রিল : অভাব-অনটনের সংসার, সীমিত সুযোগ—তবুও অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রমকে পাথেয় করে নজির গড়ল খোয়াইয়ের সোনাতলা এলাকার কৃতি ছাত্র পীযূষ দাস। ২০২৬ সালের সিবিএসই দশম শ্রেণির পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হতেই নিজের অসাধারণ কৃতিত্বে সকলকে চমকে দিয়েছে সে। ৯৭ শতাংশ নম্বর পেয়ে খোয়াই মহকুমার মধ্যে সেরার আসন দখল করেছে পীযূষ।

খোয়াই সরকারি দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের ছাত্র পীযূষের এই সাফল্যের পথ মোটেই সহজ ছিল না। তাঁর বাবা বিপ্লব দাস পেশায় গৃহশিক্ষক। মাসিক আয় মাত্র ৬ – ৭ হাজার টাকা, যা দিয়ে কষ্টেসৃষ্টে চলে তিনজনের সংসার এবং ছেলের পড়াশোনার খরচ। পরিবারে আর্থিক টানাপোড়েনের পাশাপাশি আরও একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল—পীযূষের মা মানসিক ভারসাম্যহীন। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দমে যায়নি এই মেধাবী ছাত্র।

পড়াশোনার জন্য বাড়িতে উপযুক্ত পরিবেশও ছিল না। একটি ভালো টেবিল পর্যন্ত না থাকলেও প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা নিয়মিত পড়াশোনা করত পীযূষ। নিজের অদম্য জেদ, অধ্যবসায় এবং অনলাইন কোচিং প্ল্যাটফর্মের সহায়তায় সে এই অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। পাশাপাশি ইংরেজি ও জীববিজ্ঞান বিষয়ে দু’জন গৃহশিক্ষকের কাছ থেকেও সহায়তা পেয়েছে সে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সঞ্চিতা দাসের দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণাও পীযূষের এই সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। নিজের এই সাফল্যের জন্য শিক্ষিকাকে কৃতজ্ঞতা জানায় পীযূষ।

ছেলের সাফল্যে আবেগাপ্লুত বাবা বিপ্লব দাস জানান, “অত্যন্ত কষ্টের মধ্যেও ছেলের পড়াশোনা চালিয়ে গেছি। আজ ওর এই ফল আমাদের সব কষ্ট সার্থক করেছে।”

ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে পীযূষ। সে জানায়, আপাতত একাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়াশোনা শুরু করতে চায় এবং আরও বড় লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে চায়।

পীযূষের এই কৃতিত্বে খুশির হাওয়া বইছে তাঁর পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং সোনাতলা এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে। তাঁর এই সাফল্য আবারও প্রমাণ করল—অভাব কখনোই মেধা ও ইচ্ছাশক্তিকে দমিয়ে রাখতে পারে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *