Tripura

শান্তিনিকেতনে যুবতীর মৃত্যুর বিচারপতি পর্যায়ের তদন্তের দাবি কংগ্রেসের, রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

আগরতলা, ১২ জুন : শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজে কর্মরত যুবতীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় হাইকোর্টের বিচারপতিকে দিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস ও প্রদেশ মহিলা কংগ্রেস। একইসঙ্গে ঘটনাটির নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবিতে রাজ্যব্যাপী বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দল। শুক্রবার আগরতলায় সাংবাদিক সম্মেলনে এই দাবি উত্থাপন করেন প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী এবং প্রদেশ মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী সর্বাণী ঘোষ চক্রবর্তী।

সাংবাদিক সম্মেলনে প্রবীর চক্রবর্তী অভিযোগ করে বলেন, ঘটনাটি নিয়ে শুরু থেকেই একাধিক প্রশ্নের জন্ম হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশের আগেই আমতলি থানার পুলিশ আধিকারিক এবং রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন কীভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করলেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং সন্দেহজনক। তিনি বলেন, ‘‘একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার ক্ষেত্রে তদন্তের আগেই এমন মন্তব্য করা তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।’’

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, মৃতদেহ উদ্ধারকারীরা কীভাবে নিশ্চিত হলেন যে বন্ধ ঘরের ভিতরে ওই মহিলা ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পাশাপাশি, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই কোন পরিস্থিতিতে এবং কার নির্দেশে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা মৃতদেহ নামিয়ে আনা হয়েছিল, সেই বিষয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি।

প্রবীর চক্রবর্তীর দাবি, ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখতে হলে নিরপেক্ষ তদন্ত অপরিহার্য। তাই ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তে সত্য উদ্ঘাটন হবে বলে তাঁরা বিশ্বাস করেন না। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে হাইকোর্টের কোনও বর্তমান বা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত হওয়া উচিত বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

অন্যদিকে, প্রদেশ মহিলা কংগ্রেস সভানেত্রী সর্বাণী ঘোষ চক্রবর্তী জানান, শুক্রবার দলের একটি প্রতিনিধি দল মৃতার বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এবং সমবেদনা জানায়। তিনি বলেন, পরিবার এখনও গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে এবং তাঁরা ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছে।

তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে অতীতে রাজ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত হলেও তার চূড়ান্ত রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ তুলে তিনি জানান, সেই কারণে এই তদন্তের উপর তাঁদের আস্থা নেই। বিচারবিভাগীয় তদন্তই একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ বলে দাবি করেন তিনি।

সর্বাণী ঘোষ চক্রবর্তী আরও জানান, আগামী ১৫ জুনের পর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক গণআন্দোলন শুরু করা হবে। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে সত্য উদ্ঘাটনের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলেও জানান তিনি।

সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেস নেতৃত্ব জানায়, তাঁদের সহযোগী রাজনৈতিক সংগঠন গণমঞ্চ এবং ত্রিপুরা পিপলস পার্টিও এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হবে। খুব শীঘ্রই এই দলগুলিকে নিয়ে বৈঠক করে আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে বিচারবিভাগীয় তদন্তে বাধ্য করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়।

শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজে কর্মরত মহিলার মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের এই দাবির পর বিষয়টি আগামী দিনে আরও রাজনৈতিক গুরুত্ব পেতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *