ত্রিপুরায় রাজনৈতিক হিংসার শিকার আরও ১১ পরিবারে চাকরির সুপারিশ
আগরতলা, ১২ জুন : রাজনৈতিক হিংসার বলি হওয়া আরও ১১টি পরিবারের সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়ার সুপারিশ করেছে রাজ্য সরকারের গঠিত স্ক্রুটিনি কমিটি। আইন ও অর্থ দফতরের চূড়ান্ত অনুমোদন মিললেই এই সুপারিশ কার্যকর করা হবে। শুক্রবার মহাকরণে সাংবাদিক সম্মেলন করে এ কথা জানান স্ক্রুটিনি কমিটির চেয়ারম্যান তথা বিদ্যুৎমন্ত্রী রতনলাল নাথ।
মন্ত্রী জানান, রাজনৈতিক কারণে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সরকারি চাকরি প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত ‘স্কিম ফর প্রোভাইডিং এমপ্লয়মেন্ট টু মেম্বারস অফ ফ্যামিলি অফ পারসনস কিল্ড ইন পলিটিক্যাল ভায়োলেন্স’-এর আওতায় এখন পর্যন্ত মোট ৩৮টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ১৮টি পরিবারকে ইতিমধ্যেই সরকারি চাকরি প্রদান করা হয়েছে। আরও ১১টি পরিবারের ক্ষেত্রে চাকরি প্রদানের জন্য কমিটি সুপারিশ করেছে। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির অনুমোদনের পর তাঁদের নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
তিনি বলেন, ২০১৮ সালে রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, ১৯৯৩ সাল থেকে ২০১৮ সালের ৯ মার্চ পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। পরবর্তীকালে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা সেই সিদ্ধান্তে সংশোধন এনে নির্দিষ্ট সময়সীমার শর্ত তুলে দেয়। ফলে রাজনৈতিক হিংসায় নিহত পরিবারের সদস্যরা সময়সীমার বাধা ছাড়াই এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পান।
এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিদ্যুৎমন্ত্রী রতনলাল নাথকে চেয়ারম্যান করে ছয় সদস্যের একটি স্ক্রুটিনি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি আবেদনগুলি খতিয়ে দেখে যোগ্যতার ভিত্তিতে সুপারিশ করে থাকে।
সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রী আরও জানান, জমা পড়া ৩৮টি আবেদনের মধ্যে পাঁচটি আবেদন বাতিল করা হয়েছে। কারণ, তদন্তে ওই ঘটনাগুলির সঙ্গে রাজনৈতিক হত্যার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এছাড়া আরও চারটি আবেদন বিভিন্ন কারণে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়নি।
রতনলাল নাথ বলেন, ১৯৯৩ সাল থেকে ২০১৮ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত রাজ্যে মোট ১৫ হাজার ৫৮৯ জন খুন হয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক কারণজনিত বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও হিংসার সংস্কৃতি বন্ধ করতেই বিজেপি সরকার এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
মন্ত্রী বলেন, “রাজনৈতিক কারণে নিহত পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। দেশের অন্য কোনও রাজ্যে এ ধরনের নজিরবিহীন প্রকল্প এখনও চালু নেই বলেই আমাদের জানা রয়েছে।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আইন ও অর্থ দফতরের অনুমোদন দ্রুত মিললে সুপারিশপ্রাপ্ত ১১টি পরিবারের সদস্যদের চাকরি প্রদানের প্রক্রিয়া শীঘ্রই সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
