আলোচনার আশ্বাসে অবরোধ আন্দোলন প্রত্যাহার করল আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিরা
আগরতলা, ১২ জুন : পুনর্বাসন ও ত্রিপাক্ষিক চুক্তি সংক্রান্ত দাবি পূরণের আশ্বাস এবং মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে অবশেষে ৭২ ঘণ্টার জাতীয় সড়ক ও রেল অবরোধ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিল আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিরা। আন্দোলন প্রত্যাহারের পরেই রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে যান চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে, স্বস্তি নেমে আসে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
শুক্রবার থেকে ত্রিপুরার একাধিক স্থানে শুরু হয়েছিল এই অবরোধ আন্দোলন। পুনর্বাসন প্রকল্পের অধীনে দাবি পূরণ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিরা জাতীয় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন। এর ফলে কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ে রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থা।
অসম–আগরতলা জাতীয় সড়কের বড়মুড়া, আগরতলা–খোয়াই–কৈলাশহর জাতীয় সড়কের হেজামারা সংলগ্ন সুবল সিং এলাকা সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুটে অবরোধ চলে। একই সঙ্গে মান্দাই এলাকার ভৃগুদাস পাড়ায় রেলপথ অবরোধের ফলে ট্রেন চলাচলেও ব্যাঘাত ঘটে। গোটা পরিস্থিতিতে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী থেকে সাধারণ মানুষ।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে রাজ্য প্রশাসন দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করে। বিষয়টি নিয়ে দিল্লিতে অবস্থানরত মুখ্যমন্ত্রী নিজে হস্তক্ষেপ করেন এবং উচ্চপর্যায়ের আলোচনার আশ্বাস দেন।
এরপর বড়মুড়া এলাকায় গিয়ে আন্দোলনকারীদের কাছে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা পৌঁছে দেন জনজাতি কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি নিজে চেয়ারম্যান হিসেবে বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন এবং মুখ্য সচিব, রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশকসহ বিভিন্ন দফতরের শীর্ষ আধিকারিকরা আলোচনায় অংশ নেবেন। সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়।
মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাস ও আলোচনার প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরই অবশেষে বেলা দেড়টায় অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা করেন আত্মসমর্পণকারী জঙ্গি নেতা প্রসেনজিৎ দেববর্মা। তিনি জানান, প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস পাওয়ায় আন্দোলন আপাতত প্রত্যাহার করা হয়েছে।
অবরোধ প্রত্যাহারের পরই জাতীয় সড়ক ও রেলপথ স্বাভাবিক হয়ে যায়। দীর্ঘ সময়ের ভোগান্তি কাটিয়ে স্বস্তি ফিরে পান যাত্রী ও সাধারণ মানুষ। প্রশাসনও পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক করতে নজরদারি জোরদার করেছে।
