Tripura

মথা সুপ্রিমোর মন্তব্যে ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগ সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদকের

আগরতলা, ১২ জুন: তিপ্রা মথা সুপ্রিমো প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মনের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। শুক্রবার সিপিআই(এম) রাজ্য দফতরে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বিরোধী দলনেতা তথা সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক ও পলিটব্যুরো সদস্য জিতেন্দ্র চৌধুরী প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মনের বিরুদ্ধে ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগ তুলে তীব্র সমালোচনা করেন।

জিতেন্দ্র চৌধুরীর অভিযোগ, রাজ্যে অবস্থানকালে প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মন এক ধরনের রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেন, আর দিল্লিতে গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুরে কথা বলেন। তাঁর মতে, এই দ্বিমুখী রাজনৈতিক অবস্থান জনসাধারণের কাছে বিভ্রান্তিকর এবং অত্যন্ত দুঃখজনক।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রধানমন্ত্রিত্বের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মন জনজাতি সম্প্রদায়ের উন্নয়নের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রশংসা করেন। তিনি দাবি করেন, স্বাধীনতার পর গত ৭৮ বছরে জনজাতিদের উন্নয়নের ক্ষেত্রে মোদী ও শাহ ব্যতিক্রমী ভূমিকা পালন করেছেন।

এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, রাজ্যে থাকাকালীন মথা সুপ্রিমো বিভিন্ন সময়ে বিজেপি-বিরোধী স্লোগান তুলে জনজাতি জনগণের সমর্থন ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে দিল্লিতে গিয়ে বিজেপি এবং তাদের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, “রাজ্যে মথা ও বিজেপির মধ্যে প্রকাশ্যে যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলা চলছে, কিন্তু দিল্লিতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে দুই পক্ষের মধ্যে গভীর দোস্তি।”

বিরোধী দলনেতা আরও বলেন, যে কেন্দ্রীয় সরকারের আমলে বনাধিকার আইন (ফরেস্ট রাইটস অ্যাক্ট)-এর যথাযথ বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে, সংবিধানের ১২৫তম সংশোধনী বিল দীর্ঘদিন ধরে সংসদের হিমঘরে পড়ে রয়েছে এবং কর্পোরেট স্বার্থে বনজ সম্পদ ব্যবহারের ফলে দেশের লক্ষ লক্ষ আদিবাসী ও জনজাতি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কার মুখে পড়েছেন, সেই সরকারের প্রশংসা করা জনজাতি স্বার্থের পরিপন্থী।

তিনি দাবি করেন, জনজাতিদের প্রকৃত সমস্যা ও অধিকার রক্ষার প্রশ্নে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে বহু প্রশ্ন রয়েছে। সেই বাস্তবতা উপেক্ষা করে মোদী সরকারের প্রতি ‘দরাজ সার্টিফিকেট’ দেওয়া প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মনের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে, মথা সুপ্রিমোর এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজ্যের জনজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একাংশ প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মনের বক্তব্যকে সমর্থন করলেও অন্য অংশ তাঁর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। ফলে বিষয়টি ঘিরে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *